শিলং, মেঘালয় থেকে স্বামী চরণানন্দজী মহারাজের ১৮.১২.২০২৫ তারিখের সফর

শিলং, মেঘালয় থেকে স্বামী চরণানন্দজী মহারাজের ১৮.১২.২০২৫ তারিখের সফর

আধ্যাত্মিক আলোয় উদ্ভাসিত একটি সন্ধ্যা:
স্বামী চরণানন্দজী মহারাজের শিলং থেকে আগমনের এক ঝলক

গত ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখটি পাড়াতল অঞ্চল স্বামী বিবেকানন্দ সেবাশ্রমের জন্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মেঘালয়ের শিলং থেকে আশ্রমে পদার্পণ করেছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় স্বামী চরণানন্দজী মহারাজ। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর তাৎপর্যপূর্ণ সফরটি ভক্তদের মনে এক অনাবিল শান্তির পরশ বুলিয়ে দিয়েছে।

ভজন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সূচনা

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয় ভক্তিগীতি ও ভজনের মাধ্যমে। “ডুব ডুব ডুব সাগরে আমার মন” [00:33] গানের সুরে ভক্তদের মন অন্তর্মুখী হয়ে ওঠে। এরপর “গুরুদেব দয়া করো দীনজনে” [02:18] ভজনটি পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করে। গানের সুর ও বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় পুরো আশ্রম চত্বর এক অপার্থিব শান্তিতে ভরে ওঠে।

মহারাজের অমূল্য আশীর্বাণী: সাধুসঙ্গের মহিমা

স্বামী চরণানন্দজী মহারাজ তাঁর বক্তব্যে সাধুসঙ্গের গুরুত্ব অত্যন্ত সহজভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর আলোচনার প্রধান দিকগুলো ছিল:

  • মনের চাকা ঘোরানো: মহারাজ বলেন, আমরা দৈনন্দিন জীবনে জপ-ধ্যান বা কাজ যাই করি না কেন, সাধুসঙ্গ করলে আমাদের মনের চাকাটি সঠিক দিশায় ঘুরে যায় [08:00]। এটি আমাদের চিন্তাধারাকে সংসারের দিক থেকে ভগবানের দিকে চালিত করতে সাহায্য করে।

  • চিত্তশুদ্ধি: সাধুসঙ্গের ফলে মানুষের চিত্ত শুদ্ধ হয় এবং আধ্যাত্মিক পথে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায় [08:54]।

  • সাধুসঙ্গের প্রকৃত অর্থ: তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল গেরুয়াধারী সন্ন্যাসীর সান্নিধ্যই সাধুসঙ্গ নয়; বরং ভালো ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা বা নিবিষ্ট মনে ঈশ্বরের চিন্তা ও কাজ করাও সাধুসঙ্গের সমান [09:11]।

  • নির্জন সাধনা: শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ তুলে ধরে তিনি ‘জনে, বনে, কোণে’ নির্জনে সাধনা করার কথা বলেন [09:46]। আশ্রমের শান্ত ও মনোরম পরিবেশ যে এই সাধনার জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত, তাও তিনি উল্লেখ করেন [10:01]।

মাতৃশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা

মহারাজ তাঁর বক্তব্যে শ্রীশ্রী মা সারদা দেবীর অপার করুণার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মা সবাইকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর এই আদর্শই আমাদের পথ চলার পাথেয় [11:03]। উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে মহিলাদের আধ্যাত্মিক আগ্রহ দেখে তিনি বিশেষ আনন্দ প্রকাশ করেন।

উপসংহার

দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এলেও মহারাজের মধ্যে কোনো ক্লান্তির ছাপ ছিল না। তিনি বলেন, ভগবানের কথা আলোচনা করলে সময় যে কত দ্রুত কেটে যায় তা বোঝাই যায় না [11:35]। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সমবেত প্রার্থনা ও “ওঁ নমো ভগবতে শ্রীরামকৃষ্ণায়” মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এক দিব্য অনুভূতির সৃষ্টি হয় [13:11]।

এই সফরটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ব্যস্ত জীবনের মাঝেও একটু আধ্যাত্মিক সঙ্গ ও সদালোচনা আমাদের মনকে কতটা শান্ত ও পবিত্র করতে পারে। স্বামী চরণানন্দজী মহারাজের এই পবিত্র উপস্থিতি আমাদের আগামী দিনগুলোতে চলার পথে শক্তি যোগাবে।


আরও বিস্তারিত জানতে এবং সেই মুহূর্তগুলো সচক্ষে দেখতে নিচের ভিডিওটি দেখুন: