২৫শে বৈশাখ: আমাদের রবি ঠাকুর এবং একটি মানবিক আগামীর স্বপ্ন

২৫শে বৈশাখ: আমাদের রবি ঠাকুর এবং একটি মানবিক আগামীর স্বপ্ন

তারিখ: ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ (মে, ২০২৬)

বিভাগ: বিশেষ প্রতিবেদন / সংস্কৃতি

“আকাশে দুই হাতে প্রেম বিলায় ও সে

ধন্যি ধন্যি ধন্যি রে।”

বাঙালির প্রাণের ঠাকুর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে পাড়াতল অঞ্চল স্বামী বিবেকানন্দ সেবাশ্রম (PASVS) পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাম।

সেবার আদর্শ ও রবীন্দ্র-ভাবনা

স্বামী বিবেকানন্দের “শিবজ্ঞানে জীবসেবা” এবং রবীন্দ্রনাথের “মানুষের সেবা”—এই দুই আদর্শের মিলনভূমি আমাদের এই সেবাশ্রম। কবিগুরু আজীবন গ্রামোন্নয়ন, কৃষি ও শিক্ষার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান ১৯৮৮ সাল থেকে সেই পথেই হেঁটে চলেছে। বর্ধমানের পাড়াতল অঞ্চলের মাটিতে দাঁড়িয়ে আমরা যখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ কল্যাণের কাজ করি, তখন রবি ঠাকুরের সেই “পল্লীমঙ্গল” ভাবনা আমাদের প্রেরণা যোগায়।

PASVS-এর কর্মকাণ্ডে রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ

আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগে কবিগুরুর জীবনদর্শন প্রতিফলিত হয়:

শিক্ষা (বিবেকানন্দ শিক্ষা মন্দির): বিদ্যালয়ের শিশুদের মধ্যে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং সাংস্কৃতিক চেতনা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানোই আমাদের লক্ষ্য। রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত গান, নাচ ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে যেন নতুন করে শান্তিনিকেতনী আবহের ছোঁয়া লাগে।

সাংস্কৃতিক ঐক্য: আশ্রম প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিভিন্ন উৎসব ও সমাবেশে আমরা বিভেদ ভুলে মানুষের মিলনের গান গাই, যা রবি ঠাকুরের “ভারততীর্থ” কবিতার সেই মহামিলনের বার্তারই প্রতিধ্বনি।

আজকের অঙ্গীকার

২৫শে বৈশাখের এই পুণ্য তিথিতে আমাদের অঙ্গীকার— শিক্ষার আলো এবং সেবার মানসিকতা দিয়ে এই অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্রনাথ—দুই মহাপুরুষের দেখানো পথেই আমরা সমাজ গড়ার কাজে ব্রতী থাকব।

আসুন, আজকের এই দিনে আমরা কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি—

“মানুষের পরশ পাইতে প্রাণ কাঁদে,

সেই মানুষের সেবা করেই হোক জীবনের সার্থকতা।”

শুভ রবীন্দ্র জয়ন্তী!